আসসালামু আলাইকুম। আবশ্যিক করণীয় কাজের মধ্যে শিক্ষা গ্রহণ, একটি অনন্য বিষয়। অনুন্নত প্রাণি ছাড়া, উন্নত মস্তিষ্কের প্রাণীরাই একমাত্র পড়ালেখা করতে পারে। নতুনতর জানের উনোষ ঘটিয়ে অপরাপর মানুষের মাঝে, তার অভিধা ছড়িয়ে দিতে পারে। ভাষাবোধের বিষয়টি বাদে গণিতে একমাত্র দখল আছে মানুষের। গণিতের সহায়তায় মানুষ গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে যাবার অধিকর্তা। তারই ধারাবাহিতায় অগ্র এলাকার শিক্ষানুরাগীদের বদান্যতায় এই বিদ্যালয় গড়ে উঠেছিল, তাদের অনুজদের মাঝে শিক্ষা কার্যক্রম বিস্তরণ করার লক্ষ্যে। সেই প্রচেষ্টা ১৯৬৬ সাল থেকে ক্রিয়াশীল আছে। এতদঞ্চলের ছাত্র-ছাত্রী ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে আগত গরীব এবং মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের উল্লেখযোগ্য সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে চলছে। যুগের চাহিদা এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে এই বিদ্যালয়ে পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন সহপাঠক্রমিক কার্যাবলী পরিচালিত হয়। সহপাঠক্রমিক কার্যাবলীর মধ্যে কম্পিউটার ক্লাস, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, সাহিত্য ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা, ছাত্রীদের জন্য পৃথক মিলনায়তন, খেলাধুলার সুপরিসর মাঠ, অত্যাধুনিক লাইব্রেরী, বিশেষ আধুনিক বিজ্ঞানাগার, বার্ষিক শিক্ষা সফরসহ বিশেষ বিনোদন সুবিধা রয়েছে। সর্বোপরি নিরাপদ সুশৃঙ্খল, মনোরম, পরিবেশ হচ্ছে এই বিদ্যালয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আমি বিশ্বাস করি, শিক্ষক-অভিভাবকের সেতুবন্ধনে একজন শিক্ষার্থী তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পারে। তাই শিক্ষকের পাশাপাশি অভিভাবকের প্রচেষ্টাই, নিজ পোষ্যের/সন্তানের সাফল্য নির্ণীত হবে। শিক্ষার্থীগণের চাহিদায়, শিক্ষকের কৌশলী ভূমিকা একমাত্র অনিবার্য বিষয় মনে করি। শিক্ষার্থীরা যাতে সৃজনশীল হয়ে গড়ে উঠতে পারে, তার প্রয়োজনীয় রসদ যোগানদাতা শিক্ষকের কর্মপ্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীদেরকে সম্পূর্ণ বিলীন হওয়ার জন্য বলবো। শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকের মধ্যবর্তী স্থানে, শিক্ষাক্রমের বিষয়াবলী নির্ধারিত। সুন্দর ভবিষ্যতের লক্ষ্যে শিক্ষার্থীরা শিক্ষামুখী হবে কিংবা শিক্ষকের সাথে শ্রেণির বরাদ্ধকৃত সময়ের যথাযথ ব্যবহার করবে। তাহলেই একটি নির্দিষ্ট এলাকায় শিক্ষা বিস্তরণ ঘটবে। মানুষের মননে, সৃজনে আরো উত্তোরাত্তর উন্নয়ন ঘটবে। এ বিদ্যালয় জ্ঞানের প্রদীপ শিখা জ্বালাবে। সাম্প্রতিক সময়ে দৃশ্যমান যে, শিক্ষার্থীরা মূল পাঠ্যবই না পড়ে বা গবেষণা না করে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে চায়। এটি মৌলিক শিক্ষার দিকে যায় না। মৌলিক শিক্ষা বিহীন মানুষ তার ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে না। তাই মুখস্থ করে কিংবা অন্য কোন পন্থায় সনদ অর্জন, একজন মানুষের লক্ষ্য অর্জনে অন্তরায়। সম্মানিত শিক্ষকের পাশাপাশি আপনাদের সন্তানের লেখাপড়ার মান বৃদ্ধির জন্য ডায়েরীর যথাযথ। প্রয়োগের ক্ষেত্রে আপনাদের সহযোগিতা একান্ত অপরিহার্য। আপনাদের সন্তানকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষে আপনাদের সুপরামর্শ ও সহযোগিতা আমাদের যথাযথ উদ্যোগ ও পরিকল্পনাকে আরো উৎসাহিত করবে। সে জন্য আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা একান্ত কাম্য। পরিশেষে আপনাদের প্রতি একান্ত আবেদন আপনাদের সন্তানের লেখাপড়ার ব্যাপারে প্রতিনিয়ত খোজ-খবর নেবেন, প্রয়োজনে ডায়েরীর নির্দিষ্ট কলামে মতামত প্রকাশ করে সুবিধা অসুবিধার ব্যাপারে জানাবেন এবং পরামর্শ দেবেন এই প্রত্যাশা রেখে শেষ করছি। আপনাদের সন্তানের উত্তরোত্তর উন্নতি কামনা করছি
